12 August- 2020 ।। ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ ।। সকাল ৯:৩০ ।। বুধবার

৫২ পেরিয়ে ৫৩ বছরে পা দিয়েছে ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ সরকারি তিতুমীর কলেজ

মোঃ সাখাওয়াত হোসেনঃ আজ ৭ই মে, প্রতিষ্ঠার ৫২ পেরিয়ে ৫৩ বছরে পা দিয়েছে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ সরকারি তিতুমীর কলেজ। ৬০ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীদের পদচারণায় যে ক্যাম্পাসটি মুখরিত থাকে সেই ক্যাম্পাসটি আজ ৭ই মে প্রতিষ্ঠার ৫২ বছরে পা রাখলো। শিক্ষার্থী দিক থেকে এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বৃহৎ কলেজ এটি।

‘জিন্নাহ কলেজ’ নামে ১৯৬৮ সালে সরকারি তিতুমীর কলেজ প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খান জগন্নাথ কলেজের(বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) ছাত্র-আন্দোলনকে নির্মূল করার জন্য মহাখালীতে অবস্থিত ডিআইটি খাদ্যগুদাম হিসেবে পরিচিত ভবনে জগন্নাথ কলেজের ডিগ্রি শাখা স্থানান্তর করেন এবং এর নামকরণ করা হয় জিন্নাহ কলেজ।

১৯৭১ সালের ১ মার্চ পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ইয়াহিয়া খান রেডিও-টেলিভিশনে এক ভাষণে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি স্থগিত ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে জিন্নাহ কলেজ শাখার ছাত্র সংসদের প্রথম সহ-সভাপতি (ভিপি) সিরাজউদ্দৌলার নেতৃত্বে টিপু মুনশি ও শাহাবুদ্দিনসহ তৎকালীন কতিপয় ছাত্রনেতা প্রতিক্রিয়া হিসেবে জিন্নাহ্ কলেজের সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলেন। তখন আনিসুজ্জামান খোকন (জিন্নাহ কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক) জিন্নাহ কলেজের নাম ‘তিতুমীর কলেজ’ প্রস্তাব করেন।২ মার্চ ছাত্রলীগের কর্মীরা মিছিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় জড়ো হলে সেখানে তৎকালীন ডাকসু ভিপি আ স ম আবদুর রবের মধ্যস্থতায় জিন্নাহ্ কলেজের নাম ‘তিতুমীর কলেজ’ হিসেবে চূড়ান্ত হয়।ঐ রাতেই ‘তিতুমীর কলেজ’ নামকরণের সাইনবোর্ড লেখা হয় এবং দেয়ালে টাঙিয়ে দেয়া হয়। সেই থেকেই আজকের তিতুমীর কলেজ।

প্রতিষ্ঠার সময় কলেজটিতে শুধুমাত্র উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে ক্লাস নেয়া হতো, তবে বর্তমানে এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) এবং স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে।

 

সহশিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কলেজে রয়েছে তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতি, বির্তক ক্লাব, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, নাট্যদল, শুদ্ধস্বর, আদিবাসী সংগঠন ও সেচ্ছাসেবী সংগঠন বাঁধন।

বর্তমানে কলেজটিতে ২২ টি ডিপার্টমেন্টে সর্বমোট ৬০ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এর বিপরীতে শিক্ষক আছেন ২১০ জন। নান্দনিক পরিবেশে পাঠদান কার্যক্রম চললেও বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসের পরিবেশ একে বারেই নিষ্প্রাণ।এদিকে প্রিয় ক্যাম্পাসের জন্মদিনে শিক্ষার্থীদের পদচারণা না হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানাতে ভুলেনি শিক্ষার্থীরা। তাদের প্রত্যাশা আঁধার কাটিয়ে আবারও দেখা হবে প্রাণের ক্যাম্পাসের সাথে।

বর্তমানে পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষে কাজ করছেন সরকারি তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আশরাফ হোসেন। তিনি বলেন, আমরা সবাইকে একটি স্বপ্নের তিতুমীর কলেজ উপহার দিতে চাই। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে সব স্থবির হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সকল বাঁধাকে অতিক্রম করে আমরা আমাদের সকল উন্নয়ন মূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবো। প্রতিষ্ঠা কালের তিতুমীর কলেজ আর ২০২০ সালের তিতমীর কলেজে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। ইতোমধ্যে কলেজের অবকাঠামো উন্নয়নে আমরা ব্যাপক কাজ হাতে নিয়েছি। আমাদের দু’টি নতুন ভবনের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পথে যা সম্পন্ন হলে আমাদের ক্লাস সংকট হবে না। নতুন হল হয়েছে, নতুন বাস পেয়েছি, সেই সাথে আমরা ডে কেয়ার, অডিটোরিয়ামে এসি, বিজ্ঞান ভবনের সংস্কারসহ সব ডিপার্টমেন্ট ও ক্লাসে টাইলস দেয়ার ব্যবস্থা করছি। তিতুমীর কলেজ রাজধানীর মধ্যে একটি মডেল হবে আশা করি।বর্তমান পরিস্থিতিতে অনলাইন ক্লাসের ব্যাপারে তিনি জানান, অনলাইন ক্লাস নেওয়ার ব্যাপারে আমরা এখনো কোন নির্দেশনা পাইনি। তবে ইতিমধ্যে আমাদের বেশ কিছু ডিপার্টমেন্ট অনলাইনে ক্লাস নেওয়া শুরু করে দিয়েছে। অনেক ডিপার্টমেন্ট অনলাইন ক্লাস নেওয়ার ব্যাপারে পরিকল্পনা করছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।

 

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বর্তমানে পিছিয়ে পড়া সময়কে কিভাবে আয়ত্ব করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ বলেন, আমাদের শিক্ষকরা খুবই আন্তরিক প্রয়োজন হলে আমরা অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করবো। তবে এতে শিক্ষার্থীদের আগ্রহী হতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের বর্তমান পরিস্থিতিতে বাসায় থেকে পড়ালেখার প্রতি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

Sharing is caring!



এই বিভাগের আরো খবর...