24 November- 2020 ।। ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ ।। দুপুর ১২:৪০ ।। মঙ্গলবার

মহামারীতে কর্মকর্তা- কর্মচারী ছাটায়ের বিকল্প

ইয়াসিন হোসেন রাকিবঃ যেকোনো আর্থিক বিপর্যয়ে বা দুঃসময়ে প্রতিষ্ঠানের ব্যায় সংকোচন বা ব্যায় সমন্বয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয়, মানে সর্বাধিক ব্যবহৃত পন্থা সমূহের একটি হল কর্মী ছাটাই। সেটা বাংলাদেশ বা বিদেশ, ছোট গলির দোকান কি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান-সবখানে। বরং, আমি স্রোতের বিপরীতে গিয়ে বলি, ছাটাইয়ের ব্যাপারে বহুজাতিক ভাইয়েরা আমাদের স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়েও কিছু কিছু ক্ষেত্রে একদম নিষ্ঠূর ও নির্মম। যাহোক।

আমি যেটা জানতে চাইছি, তা হল, কখনো কি কোনো বৈজ্ঞানিক বা প্রথাবদ্ধ গবেষনা হয়েছে কিনা, যে, সাধারনত ছাটাই আর্থিক দুঃসময় মোকাবেলায় কত ভাগ বানিজ্যিক সফলতা বা অর্জন (বিজনেস ভায়াবল) নিশ্চিত করে? গড়পড়তায়? আরও জানতে চাইছি, ব্যয় সংকোচন বা সমন্বয়ের পন্থা হিসেবে ছাটাইয়ের খুবই ‘ফাইন্যানশিয়ালী/বিজনেস ভায়াবল’ ম্যানপাওয়ার হতে পারে? মনে রাখবেন, এই জিজ্ঞাসায় ‘নৈতিকতা’ ও ‘মানবিকতা’ বিবেচ্য নয়, বিজনেস ভায়াবিলিটি বিবেচ্য।চলমান মহামারীতে খুবই গুরত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আলোকে শেয়ার করছি। গবেষণা হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। এটা আপনি নিজেও জানেন যতগুলো বড় ফিক্সড কস্ট আছে তার মধ্যে এমপ্লয়ী স্যালারি অ্যান্ড বেনিফিট অন্যতম। সুতরাং manpower ছাটাই করে কস্ট কমানো একটি সহজ ও বহুল প্রচলিত প্রাক্টিস। এখানে আবেগ একদম কাজ করে না। যদি প্রোডাক্টিভিটি সেম থাকে এই ম্যানপাওয়ার ছাটাই এর পরও তাহলে কোম্পানি নিশ্চয় লাভবান, সেটা যে পার্সেন্টেজ হোক না কেন। এই নিষ্ঠুর কাজ মানে ম্যান পাওয়ার ছাটাই ছাড়া আরো অনেক উপায় আছে প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর। সেটা লং ডিসকাশন।

তবে ম্যান পাওয়ার ছাটাই এর বিকল্প হতে পারে অনেক কিছুই। শুরুতে সেটা খোলামেলা আলোচনা দুই পক্ষের করে নেওয়া ভালো হবে কোন চূড়ান্ত নেবার আগে। যে দিকে আমরা নজর দিতে পারি, স্যালারি কমবে কিন্তু চাকুরী থাকবে, ওয়েলফেয়ার ফান্ড এর সিস্টেম ও যথাযথ ব্যবহার, কাজের কর্মঘণ্টা বাড়ানো যাতে কোম্পানি আগের অবস্থানে ব্যাক করতে পারে, বিজনেসের প্রধান বিষয় করে সেখানে এমপ্লয়ীদের কাজে লাগিয়ে দেখা যেতে পারে যে আউটপুট কতটুকু আসে। এমনকি এমপ্লয়ীদের স্পেশাল স্কিল কাজে নতুন কিছুও করতে পারে যাতে তাদের ছাটাই করা না লাগে৷

ইত্যাদি, চলমান মহামারীতে সবাইকে আগে মানবিক হতে হবে।এসডিজির আলোকে সবাইকে একসাথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে, কাউকে পিছিয়ে থাকবে না।

Sharing is caring!



এই বিভাগের আরো খবর...