28 March- 2020 ।। ১৫ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ।। রাত ২:০০ ।। রবিবার

ভাষা সৈনিকের হাত থেকে

রহিমা আক্তার মৌ

 

২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ রোজ শুক্রবার বিকেল ৫টায় কানায় কানায় পূর্ন হয়ে যায় নয়া পল্টনে অবস্থিত পল্টন টাওয়ারের ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম মিলনায়তন। ঢাকার ঢাকার বাহির থেকে আসা শিশু-কিশোররা আসে তাদের অভিভাবকদের নিয়ে। আসেন ‘কচিপাতা’ ম্যাগাজিনের লেখক ও পাঠকরা। ঢাকা থেকে প্রকাশিত শিশু-কিশোর পত্রিকা কচিপাতার দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও শিশু-কিশোরদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো। লেখক মো: সামছুল হকের সভাপতিত্বে উদ্বোধক ছিলেন ভাষাসৈনিক রওশন আরা বাচ্চু। প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও বরেণ্য সাংবাদিক সৈয়দ দীদার বখ্ত। বিশেষ অতিথিবৃন্দ যারা ছিলেন উপাধ্যক্ষ আঞ্জুমান আরা, লেখক মহিউদ্দিন আকবর, গীতিকার এম আর মনজু, ড. মোঃ শাহজাহান, অভিনেতা এবিএম সোহেল রশিদ, ইঞ্জিনিয়ার শাফকাৎ আলম। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন বিশ্ব পর্যটক এলিজা বিনতে এলাহী। শিশু বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখে জাতীয় শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতা ২০১৮ তে চ্যাম্পিয়ন সমৃদ্ধা শামস। স্বাগত

বক্তব্য রাখেন আলেয়া বেগম আলো, সম্পাদক ও প্রকাশক, কচিপাতা। সঞ্চালনায় ছিলেন এবিএম সোহেল রশিদ, মানসুর মুজাম্মিল ও আসমা আক্তার মৌসুমী।

কচিপাতার সম্পাদক আলেয়া আপু নিমন্ত্রণ করেন অনেক আগেই। সময়ের খুবই অভাব, কি করে যাব। তাও আবার অনুষ্ঠান শেষ হতে হতে রাত হবে। কিন্তু যখন শুনলাম উদ্বোধক হলেন ভাষাসৈনিক রওশন আরা বাচ্চু। তখন মনোস্থির করি যে করেই হোক যাবো। অন্তত কাছ থেকে দেখতে পাবো একজন ভাষাসৈনিককে। ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে জানতে, পড়তে আর ‘ভাষা আন্দোলনে নারীর অবদান’ লেখাটা লিখতেই ভাষাসৈনিকদের অনেক কথা জেনেছি। ভাষাসৈনিক হালিমা খাতুন জীবিত থাকতে বাংলা একাডেমিতে দেখা হয়েছে কথা হয়েছে। আর আজ যেতে পারলেই ভাষাসৈনিক রওশন আরা বাচ্চুর সাথে দেখা হবে। সকাল থেকে অনেক অসুস্থ থাকার পর ও গিয়েছে একমাত্র

ভাষাসৈনিক রওশন আরা বাচ্চুকে দেখার জন্যে। আমার কাছে উনি আমার বর্ণ, আমার ভাষা, আমার দেশ, আমার মাটি, আমার জন্মভূমি। আপার কাছ থেকে সম্মাননা নেবার পর ভাষাসৈনিক রওশন আরা বাচ্চু আপাকে আমার সম্পাদিত “আকাশের ঠিকানায় চিঠি” তিন কপি বই আপার হাতে তুলে দিই। চিঠির বই শুনে আপা খুব খুশি হয়। বিশ্ব পর্যটক এলিজা বিনতে এলাহী আপুকেও “আকাশের ঠিকানায় চিঠি” তিন কপি বই আপার হাতে তুলে দিই। বই হাতে এলিজা বলেন, ‘চিঠি তো হারিয়েই গেছে আমাদের সমাজ থেকে। আমিও চিঠি লিখি, লিখব আপনার পরের সংখ্যায়।’

জাতীয় সঙ্গীত দিয়েই শুরু হয় অনুষ্ঠান।কচিপাতার থিম সং গায় কচিপাতার শিশু-কিশোররা। ভ্রমণকন্যা এলিজা বিনতে এলাহী তার ৬৪ জেলা ভ্রমণ ও বিশ্বের নানা দেশ ব্রমণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন এবং শিশুদের উদ্দেশ্যে গঠন মূলক বক্তব্য রাখেন। ️প্যারেন্টিং নিয়ে কথা বলেন – আকাশ আহমেদ। মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষেদের নিয়ে কাজ করা ব্যাংকার শামীম আহমেদ  মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষদের নিয়ে করা কাজপ্রজেক্টর এ প্রদর্শন করেন।

️কচিপাতার উপদেষ্টাদের সম্মাননা স্মারক প্রদাণ করা হয়। কচিপাতার নিয়মিত লেখক রহিমা আক্তার মৌ কে সম্মাননা প্রদান করা হয়। অল এবাউট দ্যা চিলড্রেন, কাব্যখেয়াল, ঝরা ফুল ও আগামীর বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। ️সঞ্চালক টিমুনী খানকে মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে ২৯ বছর সঞ্চালনা করার জন্য সম্মাননা প্রদান করা হয়।কচিপাতার বিভিন্ন সংখ্যায় প্রচ্ছদ শিশুশিল্পী হিসেবে যারা অংশ নিয়েছিল তাদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।অনুষ্ঠানে আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু-কিশোরদের পুরস্কার প্রদান হয়। সবশেষে আপ্যায়ন ও গ্রুপ ফটোসেশন এর মধ্য  দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

আলোকচিত্রে ছিলেন অংকন তূর্য, বেলাল হোসেন চৌধুরী, ঝরা ফুল। ভিডিওগ্রাফিতে মারুফ মুন্না, মিডিয়া পার্টনার : বঙ্গটিভি, ভোরের আলো। সহযোগিতায় : পাতা ক্রিয়েশন, পাতা প্রকাশনী, ভলান্টিয়ার সেবা প্রদান : ঝরা ফুল ও আগামীর বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন।

 

লেখক- সাহিত্যিক কলামিস্ট ও প্রাবন্ধিক

Sharing is caring!



এই বিভাগের আরো খবর...