5 April- 2020 ।। ২৩শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ।। রাত ১:৩৭ ।। সোমবার

মজিদ মাহমুদের গল্প “বিধবা”

বিধবা

মজিদ মাহমুদ

এমন ভর দুপুরে যা দেখলাম তা কী স্বপ্ন হতে পারে!
এই তো বছর পাঁচেক আগে- তখনও শরীরে কৈশোর কাটেনি। ঠিক এমনি দুপুরে মাইল-দেড়েক নির্জন
প্রান্তর পাড়ি দিয়ে মর্নিং স্কুল শেষে বাড়ি ফিরতে হতো। ছম্ধসঢ়;-ছম্ধসঢ়;-ছম্ধসঢ়; সে কী অব¯’া। কখনও ভয়ে রক্ত
হীম হয়ে আসতো। অথচ বাড়িতে থাকলে এমনি দুপুরেই ছড়া কাটতাম –
দুপুরকার বেলা ভূতে মারে ঠেলা
আমার হাতে লাঠি ভূতকে মারব চাটি।
ফাল্গুনের দুপুরে বায়ু চক্রাকারে ঘূর্ণির মত হয়ে আশে পাশের আবর্জনা সমেত আকাশ ছুঁতো। ওটা
নাকি ভূতের কাজ। ওমন ঘূর্ণিবায়ুর মধ্যে খানিকটা লবন ছিটালেই জেলের দৈত্যের মত বিরাটকায় ভূত
বেরিয়ে আসে। ভূত দেখার কী যে কৌতূহল কিš‘ লবন ছিটানোর সাহস হয়নি কখনো।
এতদিনে কিš‘ ভূত দেখে আর ভয় পাই না। হয়তো নেই। তবে আজকে শ্মশানে এসে ভর দুপুরে কী দেখলাম। না
এ ভূত নয়। তবে কি স্বপ্ন? না স্বপ্ন নয়, মতিভ্রম নয়, একেবারে বাস্তব। যে আমার সঙ্গে কথা বলল, তার
শাড়ির আঁচল তুলে কেশ দেখাল, সে কী কখনও মিথ্যা হতে পারে?
ফাল্গুনের অপরাহ্নে সবখানে ভূতুড়ে নির্জনতা। শ্রীশ্রীবৃন্দাজী স্মৃতিফলকের কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম।
খোদাই করা নেমপ্লেট, চোখ পড়তেই দৃষ্টি আড়ষ্ট হয়ে গেল। ’শ্রীমতি ¯েœহলতা সেন‘- নামের
মাধুর্য কেমন যেন তন্ময় করে দিল। খানিকটা হারিয়েই গিয়েছিলাম কল্পনার প্রগাঢ় আবেষ্টনে।
রবীন্দ্রনাথের কঙ্কাল গল্পের সঙ্গে এর কোথায় যেন মিল আছে। জগতটাই এক রহস্যে ভরা। হঠাৎ করে নারীকন্ঠের
ছন্দতানে জেগে উঠলাম।
ওমন করে কি দেখছ যুবক?
শঙ্কিত অশ্বের মত সচকিত হলাম। রক্তিম লজ্জায় চেয়ে দেখলাম, কী অপরূপ লাবন্যময়ী নারী। উন্নত বরফ সুষমা
চিবুক। একটু বড় করে টেনে দেওয়া অবগুণ্ঠনের মধ্যে কোনো রকম মুখশ্রীটাই প্রতিভাত হ”েছ। কণ্ঠের
অমন ঝংকার কোনো দিন শুনিনি। এমন অনুঢ়ার মুখে যুবক নামে সম্বোধিত হওয়াতে বেশ ভালোই
লাগলো।
বললাম তুমিই কি স্নেহলতা সেন?
হসির কলস্বরে মুখরিত করে দিল শ্মশানের নির্জন প্রান্তর। এই নিভৃত নির্জন আলাপচারিনীর এমন
হাসির আবেগ বুকের মধ্যে ভীতি জাগালো। বললাম, হাসছো যে!
না হাসছি না। নামটা বড় মধুর তাই না? এমন নামের গুণেই নাকি প্রেমে পড়া যায়। তুমি কি ভাবছ
আমি নিজেই নিজের নামের প্রসংসাতে পঞ্চমুখ?
না, না, তুমি বলো না। আমিও তো তোমার নামের প্রশংসা করছি। তোমার মতো নামের রূপের একটা
মেয়েই তো পুরুষের কাম্য কাম্য।
তাই বুঝি কলেজ কামাই দিয়ে এই নির্জন প্রান্তরে স্নেহলতা সেনের খোঁজেই বেরিয়েছ?
লজ্জায় আমার দু’গ- রক্তিম হয়ে উঠলো। জড়িত কণ্ঠে বললাম, না, না, তুমি তো বিধাব।
আকস্মৎ ফাল্গুনের দমকা হাওয়ায় উড়ে গেল অবগুণ্ঠন। ওর কেশের মাতাল গন্ধ মনকে আরো উম্মন করে দিল। এমন
কেশ-বিন্যাস শুধু গল্প উপন্যাসেই পড়েছিলাম। যার একগু”ছ উড়ে এসে আমার নাসিকাতে সুড়সুড়ি দিল।

কোথাও দেখিনি এমন সুডৌল হাত- যে হাতের স্পর্শে জেগে ওঠে চির-অচেতন মৃত প্রায় আত্মা।
অনেক সাহস সঞ্চায় করে ওর মুখের দিকে তাকালাম। এতক্ষণে তার চোখে চোখ পড়তেই ভয়ে হীম হয়ে
গেলাম। যে চোখে বিদ্যুৎ ঠিকরে বেরু”েছ। এক অপরূপ সৌন্দর্য ভিজে আছে মায়ার কাজল। না, ওকে
বিধাবভ বলা ঠিক হয়নি। আমতা আমতা করতে লাগলাম।
ও বললো, আমি বিধাব তুমি কেমন করে জানলে?
এবার আমি অস্বীকার করলাম, আমি এমনিতেই বলেছি। তোমার শাদা শাড়ি, তাছাড়া দু’গাছা চুরি বা
সিঁথিতে একটু সিঁদুর তা-ও নেই।
তুমি ঠিক বলেছ আমি বিধাব। অতএব, আমাকে দ্বারা তোমার কোনো অনিষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নেই।
আমি বাঁধা দিলাম, কি যে বলো, তুমি বিধাব হতে যাবে কেন? এমন যার রূপ! কণ্ঠে এমন ছন্দ! সে কি
বিধাব হতে পারে?
আমি তো বিধবা হতে চাইনি। আর কেউ ই”ছা করে বিধাবা হতে চায়ও না। মানুষ জোর করে বিধবা করে
দেয়। যার মৃত্যু হয় সে তো মরে বাঁচে। আর যে বিধবা হয় তাকে সারা জীবন বয়ে নিয়ে চলতে হয় অন্যের
মৃত্যুর যন্ত্রণা।
তা কেন?
তাই তো। তুমি যেমন কোনো বিধবাকে বিয়ে করতে পারো না।
আমার কথা বাদ দাও; যখন বিধি-নিষেধ নেই। তাছাড়া তোমার কথা ভিন্ন। তোমার মতো রূপসীকে কে না
বিয়ে করতে চয় বলো! আ”ছা স্নেহলতা সেন তোমার আদিঅন্ত তো কিছুই জানা হলো না, হঠাৎ
নিভৃত চারিণীর মতো দেখা দিলে।
হ্যাঁ, তোমাকে জানব বলেই তো এসেছি। স্মৃতিফলকের সালটা পড়ে দেখ, খুব বেশি দিন হয়নি। তোমরা
তো সংস্কার মুক্তির বড়াই করো। আমার যখন বিয়ে হয় তখন বয়স ছিল এগার বছর।
মাত্র এগার বছর?
হ্যাঁ
তোমার স্বামী কি করতেন?
তা আমি কি করে জানব?
বারে, তোমার স্বামী কি করতেন তা তুমি জানবে না!
আমার বাবা জমিদার আর এন বোস এর নাম শুনেছ নিশ্চয়। তুমি না হলেও তোমার বাপদাদারা তারই রায়ত
ছিল। আমিই তার একমাত্র মেয়ে সন্তান। শুনেছিলাম স্বামী নাকি বিলাতে যাবেন পড়াশুনার জন্য। বিয়ের পর
একদিন তাকে দেখেছিলাম। দেখেছিলাম বললেও ভুল হবে। আমার সে কি ভয়, কিছুতেই চোখ তুলতে
পারিনি। সবার মধ্য থেকেই সে বিদায় নিলো। বছর তিনেক কেটে গেল। বাবার কাছে পত্র লিখত সে। তখন
কিš‘ বিয়ে জিনিসটা বেশ বুঝতেই শিখেছি। কিš‘ বিভ্রাট ঘটালো মাষ্টার।
মাষ্টার?
হ্যাঁ মাষ্টার।
আমি বললাম মাষ্টার কে? এই মাষ্টার লোকটাকে তো চিনতে পারলাম না।

কেন, সে তো তোমাদের কাছেই বাংলা পড়ত। নামটা কিš‘ শুনতে চেয়ো না।
তাই হবে। সে কেমন করে বিভ্রাট ঘটালো শুধু সেই কথাটা বলো।
বাবার বন্ধুর ছেলে। সবে এম.এ পাস করে চাকুরি নিলেন কলেজের মাষ্টারি। থাকবেন কোথায়? কাকার এমন
সুন্দর বাড়ি থাকতে কি অন্য কোথাও মানায়। অন্দর মহলেই তার জায়গা হলো। বলতে কি ঠিক আমার রুমেরই
বিপরীতে অর্থাৎ রুমের মাঝখানে শুধু একটা দেয়াল। কিš‘ মনের কক্ষে তো আর দেয়াল ছিল না। তাই কখন
যে তার সঙ্গে এক হয়ে গেলাম অবশ্য মনের দিক থেকে। মাষ্টার খুব ভালো আবৃত্তি করতেন। বাংলার মাষ্টার
কিনা। জোরে জোরে আবৃত্তি করতেন রবীন্দ্র-নজরুল। একদিন অনেক রাত্রে জেগে উঠলাম ওরই কণ্ঠে
রবীন্দ্রনাথের ‘ঝুলন’ কবিতা শুনে। এর আগেও অনেকবার শুনেছি ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ নজরুলের
‘চৈত্রীরাতে’ কিš‘ সেদিনকার অনুভূতির কথা বোঝাতে পারব না। আর নারী হয়ে কোনো পুরুষের কাছে
তার হৃদয়ের আকুতি বোঝাতে চাওয়া ঠিক না। বেরিয়ে পড়লাম ঘর ছেড়ে। মাষ্টারের দরজায় আঘাত করলাম।
খুলে গেল ভেজানো দরজা। এত রাতে আমাকে দেখে উৎকণ্ঠিত হলো মাষ্টার।
কি লতা তুই যে!
হ্যাঁ, তোমার কবিতা শুনে ঘুম ভেঙে গেল। আরেকবার কবিতাটা পড় না।
জানতাম শুধু আমারই না মাষ্টারেরও দুর্বলতা ছিল আমার প্রতি। আসলেই এমন তন্বি-তরুণী কার না নেশার
উদ্রেক করে। নিজের রূপ সম্বন্ধে আমি নিজেও সচেতন ছিলাম। কিš‘ রূপ নিয়ে মেয়েদের গর্ব করার
কিছু নেই, যদি অন্য কেউ এর প্রশংশা না করে। আসলে মেয়েদের রূপ পুরুষেরই গর্বের ব¯‘। থাক, কি যেন
বলতেছিলাম? ও মাষ্টারের কথা।
আমাকে একাকী এত রাতে ওর ঘরে আসতে দেখে ভয় পেয়ে গেল মাষ্টার। মুখে বলল, পাগল হয়েছিস লতা, এত
রাতে তোকে নিয়ে কবিতা আবৃত্তি করলে কেলেঙ্কারির একশেষ হবে যে। সকালে মুখ দেখাবি কি করে। বললাম
বাড়িতে তো কেউ নেই। আর এত রাতে তোমার ঘরে কেউ আসবেও না। মাষ্টার বললো, বেশ তো কাল শুনবি।
এই বলে আমার কাঁধের নিচে আলতো করে হাত রাখলো, যেখানে বুনো উদাম কেশরাশি বিন্যাস
হয়েছিল। উহ্ধসঢ়;! সে কি অব¯’া আমার। শরীরের উপর হিম প্রবাহ বয়ে গেল। মনে হলো উঠতে গেলেই যেন
হেলে পড়ব মাষ্টারের বুকের উপর। তবুও নিজেকে সামলে নিলাম। বড় ছেলেমানুষি মনে হতে লাগলো। ঘরে
এসে ভাবতে থাকলাম এ আমার ঠিক হয়নি। তবুও কানের কাছে বাজতে থাকল-
বধুরে আমার পেয়েছি আবার
ভরেছে কোল
প্রিয়ারে আমার তুলেছে জাগায়ে
প্রলয় রোল
বক্ষে শোনিতে উঠেছে আবার
কি হিল্লোল
ভিতরে বাহিরে জেগেছে আমার
কি কল্লোল।
আমি বললাম, আ”ছা স্নেহলতা মাষ্টারের সাথে এই কি তোমার প্রথম প্রেম নিবেদন?
এবার একটু মুচকি হাসল স্নেহলতা সেন, এই কি প্রথম দিন হতে পারে? তাকে দেখা অবধি তাকেই
তো আমি ধ্যান করেছি। সেই তো আমার স্বামীর রূপ ধরে সন্মুখে এসে দাঁড়াত। আমি ভাবতাম,
মাষ্টারই বুঝি আমার স্বামী। যে বিলাতে পড়তে গিয়েছিল, পড়া শেষে ফিরে এসেছে কিš‘ আমি তাকে
চিনতে পরিনি বলে সে আমার কাছে পরিচয় গোপন করে আছে। তাছাড়া মাষ্টার আমাদের বাড়িতে
আসার পরই বাবা বলেন, লতা খোকার অনেক বই পুস্তক। তুমি নিজেও তো পড়তে পার।
বাবা মাষ্টারকে খোকা বলতেন। আমি বলতাম, না বাবা, তোমার খোকার যে বড় বই, তা শুধু বোকারাই পড়ে।

মাষ্টারও নালিস করতো, দেখলেন তো কাকাবাবু, অতবড় মেয়ে তবু যদি.. .।
মাষ্টার বলতো, জানিস লতা, তোর নামের মধ্যে কেমন যেন মাধুরী আছে। শুধু নাম শুনেই প্রেমে পড়া যায়।
আমি বলতাম, হনুমান কি নিজের মুখ দেখতে পারে স্যার। পারলে তো রামের পক্ষই নিত না। ও, আরেকটা কথা,
দেখ প্রেমট্রেমে পড়ো না যেন, আবার ফাঁকিতে সইবে না।
এইভাবেই মাষ্টারকে প্রতিদিন দেবতার আসনে বসিয়ে অর্ঘ্য দিতে থাকি ভালোবাসার পুস্প।
এবার আমি বললাম, আ”ছা তোমার স্বামী বেচারার কি হলো তা তাতো বললে না। সেই তখন থেকেই শুধু
মাষ্টারের কথাই বলছ।
আমার এ প্রশ্ন শুনে মনে হলো ও বেশ দুঃখ পেলো। তবু ঠোঁটের কিনারে একটু হাসি টেনে বলল,
মাষ্টারের কথা সে তো আমারই কথা। আর স্বামী। হ্যাঁ স্বামী। এতকিছু শোনার পর আর না শুনলেও তো
অনুমান করে নেওয়ার যায়। তবে কথা কিš‘ খুবই সংক্ষেপ। তবু বলে দেওয়াই হয়তো ভালো। নতুবা তালগোল
পাকিয়ে ফেলব।
তাই ভালো।
আমার স্বামী বিলাতে কার এক্সিডেন্টে মারা যায়। বাবার কাছে টেলিগ্রাম এসেছিলো।
তারপর?
তারপর কিছুই না। আমার সেই স্বামী মারা গেলে আমি দুঃখিত বা আনন্দিত কিছুই হইনি। কেনই বা
হবো, যার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক বা পরিচয় নেই। তার মৃত্যুতে খারাপ লাগতে পারে ঠিক আর দশজন
মরলে যেমন লাগে।
বাবা কিš‘ আমাকে নিয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়লেন। অথচ আমি আরো দুর্বার হয়ে গেলাম। মাষ্টারের
কাছে যেতে কোনো বাধাই রইলো না। তাছাড়া মা ছিলেন না। বাবা বুঝলেন আমি মাষ্টারকে
ভালোবাসি। হয়তো তারও ভালো লেগে থাকবে মাষ্টারকে। অথচ মাষ্টার ক্রমান্বযে কেমন যেন পাল্টে যেত
লাগলো। আমার সঙ্গে কথা বলতে তাকে পূর্বের ন্যায় আগ্রাহান্বিত দেখতাম না। বড় সাবধানে কথা
বলতেন। না-জানি আমি কখনো ব্যথা পাই। আমাকে যেন ই”ছা করেই এড়িয়ে যেতে চাইত। তবু আমি
তার গোসলের পানি থেকে কাপড় পরিষ্কার পর্যন্ত সবই তদারক করতাম। যদিও আমার নিজের কাজ অন্য লোকে
করত।
বাবা গোপনে যোগাযোগ করলেন তার বন্ধুর সাথে। আমার কাছেও কথাটা অশ্রুত থাকেনি। না তারা
রাজি নয়। একটা বিধাব মেয়ের সঙ্গে তাদের ছেলের বিয়ে দিতে।
আমার সবখানি অন্তর পাষাণ হয়ে গেল! এ আমি কি শুনলাম! তাহলে আমি বিধাব হয়েছি! হৃদয়ের
শতকোটি বুদ্বুদ করোটির বাষ্পীয় অংশ ভরে দিল। আমি ‘বিধবা’ শুধু একটা শব্দই প্রতিধ্বনিত হতে
লাগলো।
আমি বললাম, মাষ্টারের কথা বলো। বাবা-মা বললেই সে মেনে নেবে?
হ্যাঁ নেবে। কারণ তারও অন্তরে হাজার সালের সংস্কার। রাতে বারবার ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। কিš‘ ঘুম এলো
না। ভাবতে চাইলাম সেই স্বামীর কথা, কিš‘ তার তো কোনো স্মৃতি নেই। বারবার মনে করতে চাইলাম
মাষ্টারের মুখ কিš‘ সে মুখের তো কোনো ভিত্তি নেই। শুধু ঘুমে জাগরণে একটা শব্দই শুনেছিলাম আমি
‘বিধবা’। রাত্রেই সমস্ত পোশাক পাল্টিয়ে ফেললাম। যে পোশাক দেখে একটু আগে তুমি আমাকে বিধাব
বলেছিলে।
আমি লজ্জা পেলাম, তুমি সে কথা মনেই রেখেছ? প্রকৃতপক্ষে তোমার তো বিয়েই হয়নি বিধাব হবে
কেন?

ও বললো, আমি তো আগেই বলেছি, কেউ ই”েছ করে বিধাব হতে পারে না। সমাজের মানুষরা বিধাব বলে
আখ্যায়িত করে।
তার এসব কথাতে কখন যেন নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছি। অনেকক্ষণ পরে সম্বিৎ ফিরে আসতেই, তার দিকে
তাকালাম, কেমন যেন উদ্ভান্তের মতো চেয়ে আছে। সে আমার খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। যেখান
থেকে তার শরীরের গন্ধ পা”িছ। তার কাছে চুপচাপ বসে থাকতেই ভালো লাগছে। তবু ভাবলাম বাকিটুকুও
তো শোনা দরকার তাই বললাম, বাকিটুকু বলো।
বাকি তো নেই; মোটামুটি শেষ হয়ে গেছে। তার কয়েকদিন পরেই আমি এখানে চলে আসি। এই
শ্মশানে, শ্রী শ্রী বৃন্দাজী স্মৃতি ফলকে ভর করি, আমি শ্রীমতি স্নেহলতা সেন। তোমার হাতখানি
দিয়ে আমাকে স্পর্শ করেই দেখ। আমি কেমন রোগা আর দুর্বল হয়ে গেছি।
ভয়ে সংকোচে তার দিকে হাতখানি বাড়িয়ে দিতে দিতে বললাম, মাষ্টার আসেনি এখানে?
বিকট জোড়ে হেসে উঠল স্নেহলতা সেন। হাসির গমকে গমকে মহা বিতশ্রদ্ধ হয়ে উ”চারণ করলো,
মাষ্টার!
আমার হাতের মধ্যে কেঁপে উঠল তার হাত। শক্ত করে ধরতে চাইলাম। কিš‘ একি! তখনো হাতের মধ্যে ধরা আছে
গোটাকয় তুলসীর পাতা। তুলসী পাতার উগ্রঘ্রাণ আসছে। ফাল্গুনের দমকা হাওয়াতে উড়ে গেল বায়ুর
পাক। এমন মধ্যাহ্নেও ভয়ে ছম্ধসঢ়; ছম্ধসঢ়; করতে লাগলো আমার সমস্ত শরীর।

Sharing is caring!



এই বিভাগের আরো খবর...


সংবাদ শিরোনামঃ
  Icone করোনাভাইরাসে আক্রান্ত:টোলারবাগে ১১, বাসাবোতে ৯, নারায়ণগঞ্জে ১১জন  Icone ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে খাদ্যদ্রব্য পৌঁছে দিচ্ছেন আ.লীগ নেতা সুমন  Icone What The Black Man Wants Frederick Douglass Essay  Icone 'ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯' বিষয়ক প্রচারণা কর্মসূচী অনুষ্ঠিত  Icone ইমাম মেহেদীকে সম্মাননা প্রদান  Icone প্রাইম ইউনিভার্সিটির সিএসই বিভাগে ‘অ্যাডভান্সড নেটওয়ার্কিং’শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত  Icone কুজেন্দ্র মল্লিকা মর্ডান কলেজের অধ্যক্ষ সাধন ত্রিপুরা পেলেন হিউম্যান রাইটস্ পিস এ্যাওয়ার্ড  Icone প্রাইম ইউনিভার্সিটি ইইই বিভাগে "পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন ও সাবস্টেশন ”ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত  Icone কবি জীবনানন্দ দাশ স্মৃতিপদক ২০১৯  Icone বর্ষসেরা তরুণ কবি'র অ্যাওয়ার্ড পেলেন কুষ্টিয়ার রত্নসন্তান ফয়সাল হাবিব সানি