12 August- 2020 ।। ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ ।। সকাল ৯:০৭ ।। বুধবার

ফিচার লেখার টিপস

ফিচার কী এটা জানার আগে জানুন, ফিচার কী নয়। ফিচার প্রতিদিনের হার্ড নিউজ নয়। হার্ড নিউজ হচ্ছে রোজকার প্রত্য খবর। খবরে কে, কোথায়, কখন, কাকে, কেন, কিভাবে উপস্থিত থাকতে হয়। আর মূল কথা শুরুতেই জানাতে হয়। আবার এই সংবাদের জন্য আপনাকে যথাযথ সূত্রের বরাত দিতে হবে। ফিচার এ রকম নয়। তাহলে ফিচার কী?
ফিচার হচ্ছে, মানবিক আবেদনসমৃদ্ধ এক বিশেষ ধরনের রচনা। যে ধরনের লেখা পাঠককে কোনো না কোনোভাবে আলোড়িত করতে সম হয়। ফিচার লিখবেন, আপনার ভাষায় বৈচিত্র্য থাকতে হবে, বিষয়ে বৈচিত্র্য লাগবে, গল্প বলার ধরনে অবশ্যই অভিনবত্ব থাকতে হবে।
ফিচার শব্দটি বেশ আগে বিস্তৃত আকারে ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। হার্ড নিউজ ছাড়া সংবাদপত্রে প্রকাশিত ছবি, কার্টুন, নকশা, সম্পাদকীয়, উপসম্পাদকীয়, চিঠিপত্র সব কিছুকেই ফিচারের আওতায় আনা হতো। বর্তমানে ফিচারের পরিসর অনেক সঙ্কুচিত হয়ে এসেছে। ফিচার হচ্ছে, সে ধরনের বিবরণী যা তুচ্ছ ঘটনাকেও সুখপাঠ্য করে তোলে। যেকোনো বিষয় নিয়ে যেকোনো সময়ে ফিচার লেখা যেতে পারে।
ফিচারের প্রকারভেদ
বিষয়বস্তু, উপাদান, লেখার কাঠামো ইত্যাদির ভিত্তিতে ফিচারকে বেশ কয়েকটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়। মনে রাখতে হবে, এসবের বাইরে অন্যভাবে, অন্য কাঠামো অনুসারে লেখা সম্ভব নয়, এমন কিন্তু নয়। মূল কথা পাঠকের সাথে যোগাযোগে সম হতে হবে।
মানবিক আবেদনমূলক ফিচার : মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, রাগ-ােভ-ঘৃণার মতো অনুভূতিগুলোকে স্পর্শ করা বা জাগিয়ে তোলার জন্য এ ধরনের ফিচার লেখা হয়। সাধারণত নারী-পুরুষ, শিশু, পশু-পাখি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আবহাওয়া, পরিবেশ, মেলা, পার্বণ, উৎসব, খেলাধুলা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে এ ধরনের ফিচার লেখা হয়। মনে রাখা দরকার, সব ধরনের ফিচারেই কোনো না কোনো মাত্রায় মানবিক আবেদন অবশ্যই থাকবে।
ব্যক্তিত্ব চিত্রণ : সাধারণত বিভিন্ন েেত্র খ্যাতিমান, গুরুত্বপূর্ণ বা প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের নিয়ে এ ধরনের ফিচার লেখা হয়। যেমনÑ কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, রাজনীতিবিদ, গায়ক, খেলোয়াড়, শিাবিদ প্রমুখকে নিয়ে এ ধরনের ফিচার লেখা হয়। বা এমন কোনো ব্যক্তি যিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন অনুসরণীয় একজন হিসেবে, তার জীবনদর্শন ফুটানোর জন্যও এ ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে।
আত্মকথাবিষয়ক ফিচার : কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি যদি তার জীবনদর্শন, অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন, তবে ওই ধরনের বিবরণীকে আত্মকথামূলক বিবরণী বলা হয়। ল রাখতে হবে, আত্মকথন যেন মিথ্যাচারে পরিণত না হয়।
স্বীকারোক্তিমূলক ফিচার : এটি আত্মকথনমূলক ফিচারেরই একটা বিশেষ ধরন। এ ধরনের ফিচারে লেখক তার একান্ত ব্যক্তিগত কোনো গোপন বিষয়ের অবতারণা করেন। ফলে পাঠকের মনে বিশেষ ধরনের আবেদন সৃষ্টি হয়। ক্রীড়া বা শোবিজের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা এ ধরনের কৌশলের আশ্রয় নেন।
ইতিহাসভিত্তিক ফিচার : অতীতের কোনো ঘটনা, বিষয় বা ব্যক্তিকে নিয়ে এ ধরনের ফিচার লেখা হয়। অতীতের মর্মস্পর্শী বা আকর্ষণীয় বিষয় বর্তমান পাঠকের কাছে বেশ আবেদন সৃষ্টি করতে সম। কেননা এ ধরনের ফিচারে অতীতকে সময়োপযোগী করে পরিবেশন করা হয়। প্রচলিত কাহিনী বা ধারণার ওপর নতুনভাবে আলোকপাত করা হয় এবং অতীতের গৌরব বা ব্যর্থতা পাঠককে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, পলাশীর যুদ্ধ, তাজমহল, লালবাগ কেল্লা এসব ঐতিহাসিক ঘটনা বা নিদর্শন নিয়ে এ ধরনের ফিচার লেখা হয়। মুক্তিযুদ্ধের মূল বিষয়গুলো আমাদের কম-বেশি জানা। কিন্তু এমন ঘটনা ঘটে গেছে, যা আজো অন্ধকারে চাপা, সেগুলোর ছোঁয়া যদি পাঠক কোনো ফিচারে পান তাহলে অবশ্যই আগ্রহী হয়ে উঠবেন।
সাাৎকারমূলক ফিচার : কীর্তিমান বা ব্যর্থ কোনো ব্যক্তির আনন্দ-বেদনার স্মৃতি ও জীবনের নানা বিষয় সাাৎকারের মাধ্যমে তুলে ধরে চমৎকার মানবিক আবেদন সৃষ্টি করা যায়।
সংবাদ ফিচার বা ফিচারধর্মী সংবাদ : কোনো হার্ড নিউজে যখন আবেদনসম্পন্ন দিক থাকে তখন সে দিকটি ফোকাস করে ফিচার আইটেম থেকে দেখা যায়। সংবাদ ফিচারটি যদি মূল খবর প্রকাশের পরের দিন প্রকাশিত হয় তাহলে সেটাকে ‘সেকেন্ড ডে ফিচার’ বলে। আর সংবাদ ফিচারটি যদি মূল স্টোরির সাথেই প্রকাশিত হয় তাহলে সেটিকে ‘সাইড স্টোরি’ বলে।
ভ্রমণবৃত্তান্ত বা অভিযানমূলক ফিচার : মানুষ তার পরিচিত পরিম লের বাইরের মানুষ, বিচিত্র পেশা বা তাদের জীবনযাত্রা, ভৌগোলিক বৈচিত্র্য, ইতিহাস জানতে আগ্রহী।
বিশ্লেষণমূলক ফিচার : খবরের পেছনে খবর থাকে। এসব খবরের প্রোপট, কার্যকরণ সূত্র, অজ্ঞাত বা অর্ধজ্ঞাত প্রাসঙ্গিক তথ্য দিয়ে বিশ্লেষণমূলক ফিচার লেখা হয়। বিশেষত অপরাধ, রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি, দুর্ঘটনা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে এ ধরনের ফিচার লেখা হয়।
উন্নয়ন ফিচার : উন্নয়ন ফিচার আধুনিক সাংবাদিকতায় নতুন সংযোজন। উন্নয়নধর্মী বিষয় নিয়ে যে ফিচার লেখা হয় তাকে উন্নয়নধর্মী ফিচার বলে। উন্নয়ন সমস্যা, সম্ভাবনা, ব্যক্তি-গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের সাফল্য, স্থানীয় সম্পদ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে উন্নয়ন ফিচার লেখা হয়। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে সরকার, এনজিও, দাতাগোষ্ঠী ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত সাধারণ মানুষের মনে উন্নয়ন-আকাক্সা জাগিয়ে তুলতে এ ধরনের ফিচারের ওপর গুরুত্বারোপ করে।
কেন ফিচার পড়তে পাঠক আগ্রহ প্রকাশ করবে :
১. তথ্য সংগ্রহের সময় এবং সেই সাথে লেখার সময়ও ভালোমতো পরিকল্পনা দরকার। পূর্বপরিকল্পনা গুছিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে, টানা গতিময় ছন্দে লেখা পরিবেশনে সাহায্য করে।
২. যখন তথ্য সংগ্রহ করবেন তখন আপনার মাথায় যে ছক থাকবে, সেটা সব সময় কার্যকর হবে এমন নয়। তথ্য খুঁজতে গিয়ে নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ কোনো অ্যাঙ্গেল চোখে পড়লে ছক পাল্টাতে হবে।
৩. যে অ্যাঙ্গেলটি যথাযথ বলে আপনি সিদ্ধান্ত নিলেন সেটি যথাসম্ভব পূর্ণাঙ্গভাবে, যুক্তিযুক্তভাবে, গুছিয়ে ফুটিয়ে তুলুন।
৪. একটা স্ট্যান্ডার্ড দৈর্ঘ্য ৫০০ থেকে ১০০০ শব্দ কাহিনীর প্রয়োজন বুঝে মাপ ঠিক করে নেবেন।
৫. ভাষা সহজ, তরতরে রাখুন। বাক্য ও প্যারাগ্রাফ অবশ্যই ছোট হলে পড়তে সুবিধা হবে, কাহিনীর প্রতি আকৃষ্ট করার মতা বেড়ে যাবে।
৬. তথ্য যখন ব্যক্তির কাছ থেকে নিচ্ছেন তখন কান সজাগ রাখুন চমৎকার কিছু উদ্ধৃতির জন্য।
৭. সূচনা কিভাবে করবেন ভেবে নিন। পাঠকের মনোযোগ ধরার এইটাই সুযোগ।
৮. সত্য ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য উপস্থাপন করতে হবে,

Sharing is caring!



এই বিভাগের আরো খবর...