30 November- 2020 ।। ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ ।। সকাল ৬:৪৯ ।। সোমবার

দুই বছর ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক হচ্ছে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের

সিও ডেস্কঃ  দেশের মেডিকেল (এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সের) শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সময়কাল একবছর থেকে বাড়িয়ে দুই বছর হচ্ছে। ইন্টার্নশিপের বাড়তি এই একবছর তাদের বাধ্যতামূলক কাটাতে হবে একটি উপজেলা হাসপাতালে। যদিও ইন্টার্নশিপ সময়কালে (দুই বছর) তাঁরা সরকার নির্ধারিত ইন্টার্ন ভাতা পাবেন। আর উপজেলা হাসপাতালে ইন্টার্নশীপ সময়কালে সরকারি ভাবে তাদের আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। ৫ বছরের এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্স শেষে এতদিন সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একবছরের ইন্টার্নশিপ করে আসছেন মেডিকেল শিক্ষার্থীরা। এর স্থলে ইন্টার্নশিপের সময়কাল এখন দুই বছর নির্ধারণ করে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করছে সরকার। ইতোমধ্যে এই নীতিমালার খসড়াও প্রস্তুত করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। গত ৭ আগষ্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহেদ মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই খসড়া নীতিমালা প্রস্তুত করা হয়। ‘মেডিকেল কলেজ/ডেন্টাল কলেজ/প্রতিষ্ঠান এর এমবিবিএস/বিডিএস কোর্সের মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশীপ প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশীপ ভাতা প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা-২০১৯’ শীর্ষক এ নীতিমালার খসড়া প্রস্তুতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের চিকিৎসা শিক্ষা-১ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বকাউল। তবে এ খসড়ার বিষয়ে মতামত প্রদানের সুযোগ থাকছে জানিয়ে পরবর্তীতে এটি চূড়ান্ত করা হবে বলেও জানান মন্ত্রণালয়ের এ কর্মকর্তা।
খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী- ইন্টার্নশীপ প্রশিক্ষণের দুই বছর সময়কালের প্রথম বছর প্রশিক্ষণার্থীকে স্ব প্রতিষ্ঠানের হাসপাতালে (যে মেডিকেল কলেজ/ডেন্টাল কলেজ বা প্রতিষ্ঠান হতে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন) ইন্টার্নশীপ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। আর ২য় বছর ইন্টার্নশীপ প্রশিক্ষণ নিতে হবে একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সরকার অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মেডিকেল কলেজ/ডেন্টাল কলেজ/প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ইন্টার্নশীপের জন্য উপজেলা নির্ধারণ করবেন।
যদিও উপজেলা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণার্থীরা নিজ-নিজ জেলা/বিভাগে প্রাধান্য পাবেন বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন- প্রশিক্ষণার্থীরা প্রথম বছরের প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান ২য় বছর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুশীলন করবেন। আর ইন্টার্নশীপ শেষে স্ব-স্ব মেডিকেল/ডেন্টাল কলেজ/প্রতিষ্ঠান থেকে তারা ডিগ্রি অর্জন করবেন।
ইন্টার্নশীপের সময়কাল বাড়ানোর বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। এই চিকিৎসকের মতে- চিকিৎসাবিদ্যায় যত বেশি প্রশিক্ষণ নেয়া যায়, তত ভালো। কারণ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন চিকিৎসকের পেশাগত দক্ষতার উৎকর্ষতা বাড়ে। আর প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে একবছর গ্রামে বা উপজেলায় থাকলে সেখানে খুব কাছ থেকে গরীব মানুষের চিকিৎসা সেবার সুযোগ পাওয়া যাবে। এতে করে প্রশিক্ষণার্থীদের আত্মবিশ্বাসও বাড়বে। যদিও কিছুটা ভিন্ন মত দিয়েছেন বিএমএ (বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন) চট্টগ্রামের সভাপতি ডা. মুজিবুল হক খান। এই চিকিৎসক নেতা মনে করেন- চিকিৎসক হতে গিয়ে একজন মেডিকেল শিক্ষার্থীর এমনিতেই প্রায় ৬ বছর লেগে যায়। এর সাথে আরো একবছর বাড়ানো হলে চিকিৎসক হওয়ার প্রক্রিয়াটা আরো দীর্ঘ হবে। তবে এক বছর ইন্টার্নশীপ শেষে ওই শিক্ষার্থীদের পার্ট-১ ও বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে। আর উপজেলায় এক বছর ইন্টার্নশীপের সময়কালটি প্রশিক্ষণ বা চাকরির মেয়াদ হিসেবে গণনা করলে তা ইতিবাচক ফল আনবে। তাছাড়া উপজেলায় ইন্টার্নশীপ সময়কালে ইন্টার্ন ভাতা বাড়ানো প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন বিএমএ চট্টগ্রামের সভাপতি।
খসড়া নীতিমালার সাধারণ নিয়মাবলীতে বলা হয়েছে- প্রথম বছরের ইন্টার্নশীপ প্রশিক্ষণের জন্য কোন শিক্ষার্থী আন্তঃকলেজ/প্রতিষ্ঠানে বদলি বা মাইগ্রেশনের সুযোগ পাবে না। তাকে স্ব-প্রতিষ্ঠানের হাসপাতালেই প্রথম বছর ইন্টার্নশীপ সম্পন্ন করতে হবে। আর ২য় বছর ইন্টার্নশীপ প্রশিক্ষণের জন্য উপজেলা নির্ধারণে সরকারি/বেসরকারি মেডিকেল/ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে প্রশিক্ষণার্থীর নিজ জেলা/বিভাগকে প্রাধান্য দিতে হবে।
ইন্টার্নশীপ ভাতা :
নীতিমালার খসড়ায় বলা হয়েছে, সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল/ডেন্টাল কলেজ/প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকার সময়ে সময়ে ইন্টার্ন ভাতার পরিমাণ নির্ধারণ করবে। নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী ইন্টার্নী প্রশিক্ষণার্থীরা ভাতা পাবেন।
একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী এমবিবিএস/বিডিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর শুধুমাত্র ইন্টার্নশীপ প্রশিক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণকালীন সরকার নির্ধারিত ভাতা প্রাপ্য হবেন। বাংলাদেশের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে এমবিবিএস/বিডিএস/সমমানের কোর্সে সার্ক ও নন সার্ক কোটায় ভর্তিকৃত বিদেশি শিক্ষার্থীরাও ইন্টার্নশীপ ভাতা পাবেন।
বেসরকারি মেডিকেল/ডেন্টাল কলেজ/প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশীপের ক্ষেত্রে প্রথম বছরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ভাতা প্রদান করতে হবে। তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও সরকার নির্ধারিত সমান হারে ভাতা দিতে হবে। আর ২য় বছরে (উপজেলা হাসপাতালে ইন্টার্নশীপ সময়কালে) এ ভাতা সরকার বহন করবে।
এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতর বছরের শুরুতেই সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজের পরবর্তী বছরের সম্ভাব্য ইন্টার্নদের তালিকা/সংখ্যা প্রস্তুত করে তা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে।
উল্লেখ্য, ইন্টার্নরা বর্তমানে মাসিক ১৫ হাজার টাকা ইন্টার্ন ভাতা পেয়ে থাকেন। ২০০৮ সালের আগ পর্যন্ত যার পরিমাণ ছিল মাসিক ৬ হাজার টাকা। ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার গঠনের পর এ ভাতা ৬ হাজার টাকা থেকে দশ হাজার টাকায় উন্নীত করে। আর ২০১৬ সালের জুন মাসে তা ১৫ হাজার টাকা করা হয়।
এদিকে, ‘মেডিকেল কলেজ/ডেন্টাল কলেজ/প্রতিষ্ঠান এর এমবিবিএস/বিডিএস কোর্সের মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশীপ প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশীপ ভাতা প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা-২০১৯’ শীর্ষক খসড়া নীতিমালাটি গতকাল (২৮ আগস্ট) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। ওয়েবসাইটে প্রকাশের মাধ্যমে খসড়া নীতিমালার বিষয়ে মতামতও চেয়েছে মন্ত্রণালয়। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ই-মেইল ও ডাকযোগে মতামত দেয়া যাবে।

Sharing is caring!



এই বিভাগের আরো খবর...