24 November- 2020 ।। ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ ।। সকাল ১১:৫২ ।। মঙ্গলবার

করোনায় হোস্টেল বন্ধ তবুও টাকার জন্য নোটিশ

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে গত মার্চ থেকেই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। হোস্টেলও প্রকৃতভাবে বন্ধ রয়েছে। এর ফলে কলেজ হোস্টেলে না থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের নিজ বাসায় রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী যখন দেশের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছেন ঠিক সেই সময়ে কুষ্টিয়া সরকারি মহিলা কলেজের বেগম রোকেয়া ও তাপসী রাবেয়া হোস্টেলের ছাত্রীদের কাছ থেকে হোস্টেলের সিট বাবদ বড় অংকের টাকার জন্য নোটিশ দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

গত ১৩ অক্টোবর কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. সফিকুর রহমান খান ও হোস্টেল সুপার বাংলা বিভাগের শিক্ষক রাজিয়া খাতুনের স্বাক্ষরিত এ নোটিশ দেওয়া হয়।

নোটিশে জানানো হয়েছে, আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে হোস্টেল ফিস-এর টাকা জমাদান পূর্বক সিট নবায়ন করার জন্য নির্দেশ দেয়া হলো। ওই তারিখের মধ্যে হোস্টেলে সিট নবায়ন না করলে হোস্টেলে থাকতে ইচ্ছুক নয় বলে ধরে নেওয়া হবে। নোটিশেও আরো উল্লেখ করা হয়েছে, কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি বিদ্যুৎ বিল সরবরাহ বাবদ ও অত্যাবশকীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থের প্রয়োজন।

এ বিষয়ে শিক্ষার্থী,অভিভাবক ও শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কলেজে প্রতি চলতি অর্থবছরে অগ্রিম দুইটি হোস্টেলের সিটে থাকা বাবদ শিক্ষার্থীরা অগ্রিম টাকা পরিশোধ করে থাকে। এবারও ৪১৭ টাকা মাসিক হারে চলতি ২০২০-২০২১ (জুলাই-জুন) অর্থবছরে ১২ মাসের ৫ হাজার ৪ টাকা পরিশোধের জন্য এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
হঠাৎ করেই কলেজ থেকে এরকম নোটিশ পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। হোস্টেলে না থেকেও হোস্টেলের টাকা এবং বিদ্যুৎ বিল দিতে হবে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। পাঁচ হাজার টাকাও অনেক বেশি টাকা হিসেবে দেখছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। কারণ গত অর্থবছরে জুন পর্যন্ত টাকা পরিশোধ রয়েছে কিন্তু করোনার কারণে মার্চ থেকেই কলেজ বন্ধ। এ কারণে এপ্রিল থেকে হোস্টেলও বন্ধ রয়েছে।

এখানে হোস্টেলের শিক্ষার্থীদের গত অর্থবছরের এপ্রিল, মে, জুন মাসের টাকা পরিশোধ রয়েছে। অন্যদিকে বর্তমান অক্টোবর পর্যন্তও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। হোস্টেলও প্রকৃতভাবে বন্ধ রয়েছে। কিন্তু গত জুলাই থেকেই টাকা পরিশোধের নোটিশ প্রদান করা অমানবিক বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই।

কলেজ কর্তৃপক্ষের দেওয়া নোটিশটি নিয়ে সামাজকি যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে আলোচনা-সমালোচনা। ক্লাস-পরীক্ষা,হোস্টেল সবই বন্ধ কিন্তু এত টাকা পরিশোধ করতে হবে নইলে হোস্টেল ছাড়তে হবে। ভেতরে ভেতরে শিক্ষার্থীদের চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে কিন্তু ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কেউ সাহস করে মুখ খুলতে চাইছে না।

হোস্টেলের সিটধারী ছাত্রী ও মনিটর শামীমা জাহান বুশরার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সত্যি এটি অমানবিক সিদ্ধান্ত। বিষয়টি নিয়ে আমরা শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাদের কাছে সময় চেয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কিছুই জানানো হয়নি আমাদের।’

এ বিষয়ে হোস্টেল সুপার ও বাংলা বিভাগের শিক্ষক রাজিয়া খাতুনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘এটি প্রশাসন ও কলেজ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত আমার নয়। কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার জন্যই এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’

কুষ্টিয়া সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. সফিকুর রহমান খানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সুইপার,বাবুর্চি ও নাইট গার্ডের বেতন দেওয়ার জন্যই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক বলেই এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’

Sharing is caring!



এই বিভাগের আরো খবর...